সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ১০:০০ পূর্বাহ্ন
যুগোপযোগী পরিবেশ ও আবহাওয়ার কারণে মাশরুম চাষে ঢাকার নবাবগঞ্জে বিপুল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ঔষধি গুণ সম্পন্ন এ খাবারটির চাহিদাও বাড়ছে ব্যাপক হারে। অথচ এখনো চাহিদার চেয়ে উৎপাদন কম। উৎপাদন বাড়ানো গেলে অর্থনৈতিক সাফল্য নিশ্চিত। ফলে মাশরুম চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছেন অনেকে।
আগ্রহ আর অদম্য ইচ্ছা শক্তির জোড়ে মাশরুম চাষ শুরুর এক বছরের মধ্যেই তেমনই এক সফল চাষি ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের উত্তর বাহ্রা গ্রামে শাহিন মোল্লা।
‘সাভার মাশরুম উন্নয়ন সেন্টার’ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ২০২০ সালে শুরু করেন মাশরুম চাষ। শুরুতে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বীজ কিনে মাশরুম চাষ করলেও বর্তমানে নিজেই বীজ তৈরি করে চাষের পাশাপাশি বিক্রি করছেন তিনি।
বর্তমানে মাশরুমের পাশাপাশি বীজেরও চাহিদা বেড়েছে। সরকারি সহায়তা পেলে মাশরুম চাষ করে বেকার সমস্যা দূর করার পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব বলে মনে করেন এই উদ্যোক্তা।
শাহিন মোল্লা জানান, খড়, কাঠের গুঁড়া, গমের ভুসি, তুস ও চুন দিয়ে আমরা নিজেরাই মাশরুমের বীজ তৈরি করি। পরে বীজের সঙ্গে জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন সেন্টার থেকে আনাটিস্যু কালচার যুক্ত করে সঠিক পরিচর্যা ও দিনে ৩ বার পানি স্প্রের মাধ্যমে ২০ দিনের মাথায় শুরু হয় ফলন।
এ কাজে তেমন একটা পরিশ্রম নেই। প্রতিদিন ৩০ কেজির মতো অর্ডার আসে। খামার আরও বড় করতে পারলে এলাকার চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করার আশা তার।
মাশরুম চাষি শাহিন মোল্লা আরও জানান, বর্তমানে মাশরুম চাষ করে তিনি সব খরচ বাদ দিয়ে ভালো টাকা আয় করতে পারছেন। প্রথম স্পন থেকে ২৫ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। ২ কেজির একটি স্পন প্যাকেট থেকে একবার ফলনে ৩০০-৫০০ গ্রাম পর্যন্ত মাশরুম পাওয়া যায়। তিনি প্রতিদিন ২-৩ কেজি পর্যন্ত মাশরুম বিক্রি করে থাকেন। প্রতি কেজি মাশরুম বিক্রি হয় ২৫০-৩০০ টাকা দরে। অবিক্রীত মাশরুম ও নষ্ট করেন না তিনি, রোদে শুকিয়ে কেজিপ্রতি ১২০০টাকা দরে বিক্রি করেন দূরবর্তী উপজেলাগুলোতে।
ভবিষ্যতে মাশরুমের বীজ গবেষণা ল্যাব স্থাপনের ইচ্ছাও পোষণ করেন তিনি।
অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় শাহিন মোল্লার দেখাদেখি দোহার-নবাবগঞ্জের অনেক বেকার যুবক ঝুঁকছেন মাশরুম চাষে।
নয়নশ্রী ইউনিয়নের উত্তর বাহ্রা গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন, মাশরুম চাষ শুরুর দিকে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ মনে করলেও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাশরুম চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। শাহিন মোল্লার মাশরুম চাষে এই এলাকার একটি দৃষ্টান্ত।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাহিদুজ্জামান জানান, মাশরুম চাষ একটি লাভজনক পেশা। এর পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। নবাবগঞ্জ কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে মাশরুম চাষিদের মাঠপর্যায়ে গিয়ে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়া এই এলাকার কোনো যুবক মাশরুম চাষে আগ্রহী হলে তাকে সকল ধরনের সহযোগিতা করা হবে।